রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম) এর হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নামকরণ এবং তাঁর তাহনীক করা

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদীয়াল্লাহু ‘আনহুমা) যখন জন্মগ্রহণ করেন, তখন তাঁর মা তাঁকে রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম)-এর কাছে নিয়ে আসেন তাঁর নাম রাখার জন্য এবং তাঁর তাহনীক করার জন্য।

রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম) তার নাম আব্দুল্লাহ রাখলেন এবং তাহনীক করলেন। এরপর, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম) তাঁর মাকে বললেন:

“তুমি এখন তাকে নিয়ে যেতে পারো, তুমি অবশ্যই তাকে বুদ্ধিমান শিশু হিসেবে দেখতে পাবে (যখন সে বড় হবে)”। (আল-মুজামুল কাবীর #১০৫৮০)

রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম)-এর তাহাজ্জুদ নামাজ শেখার উদ্দেশ্যে তাঁর সাথে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদ্বীয়াল্লাহু ‘আনহুমা)-এর রাত্রিযাপন

রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম)-এর চাচা হযরত আব্বাস (রাদ্বীয়াল্লাহু ‘আনহু) চেয়েছিলেন যেন তাঁর ছেলে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদ্বীয়াল্লাহু ‘আনহুমা) রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম)-এর সাথে রাত কাটান এবং তাঁর বরকতময় সান্নিধ্য লাভ করেন।

সহীহ মুসলিম ও ত্বহাবী শরীফের বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদ্বীয়াল্লাহু ‘আনহুমা)-কে তাঁর পিতা হযরত আব্বাস (রাদ্বীয়াল্লাহু ‘আনহু) নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম)-এর তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ ও শেখার উদ্দেশ্যে তাঁর খালা হযরত মাইমুনা (রাদ্বীয়াল্লাহু ‘আনহা)-এর ঘরে রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম)-এর সাথে রাত কাটান। হযরত আব্বাস (রাদ্বীয়াল্লাহু ‘আনহু) তাঁর ছেলে হযরত আব্দুল্লাহ (রাদ্বীয়াল্লাহু ‘আনহু)-কে বলেছিলেন রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম)-এর তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের নিয়মটি শিখে নিতে এবং তাঁকে সে সম্পর্কে অবহিত করতে (যাতে তিনিও সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতে পারেন)।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাদ্বীয়াল্লাহু ‘আনহুমা) বর্ণনা করেন:

“রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম)-এর তাহাজ্জুদ নামাজ পর্যবেক্ষণ করার জন্য আমি আমার ফুফু হযরত মাইমুনা (রাদ্বীয়াল্লাহু ‘আনহা)-এর ঘরে রাত কাটালাম। রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম) রাতের বেলা ঘুম থেকে উঠলেন এবং প্রাকৃতিক প্রয়োজনে (প্রস্রাব-পায়খানার জন্য) গেলেন। এরপর তিনি তাঁর মুখমণ্ডল ও হাত ধুয়ে পুনরায় ঘুমাতে গেলেন।

“এরপর তিনি আবার ঘুম থেকে উঠলেন এবং চামড়ার পানির পাত্রটির (মশক) কাছে গেলেন। পানি বের করার জন্য তিনি পাত্রের বাঁধন খুললেন এবং তারপর অযূ করলেন।” অযূ করার সময় তিনি খুব বেশি পানি ব্যবহার করেননি, কিন্তু তিনি নিখুঁতভাবে অযূ সম্পন্ন করেছিলেন। এরপর তিনি নামাজ আদায় শুরু করলেন।

“আমি ঘুম থেকে উঠে অযূ করলাম। এরপর রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম)-এর বাম পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম (তাঁর সাথে নামাজে শরিক হওয়ার জন্য)। নামাজ আদায়ের সময় রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম) এক হাত দিয়ে আলতোভাবে আমার কান ধরলেন এবং তাঁর পেছন দিক দিয়ে আমাকে তাঁর ডান পাশে সরিয়ে নিলেন।

“সে রাতে রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম) তেরো রাক‘আত নামাজ আদায় করেছিলেন। রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম) তাহাজ্জুদের নামাজে এই দোয়াটি করেছিলেন:

‘হে আল্লাহ! আমার অন্তরে নূর (জ্যোতি) দিন, আমার দৃষ্টিশক্তিতে নূর দিন, আমার শ্রবণশক্তিতে নূর দিন, আমার ডানে নূর দিন, আমার বামে নূর দিন, আমার উপরে নূর দিন, আমার নিচে নূর দিন, আমার সামনে নূর দিন, আমার পেছনে নূর দিন এবং আমাকে (আমার প্রতিটি কাজে) নূর দান করুন।’”

(সহীহ বুখারী #৬৩১৬, সহীহ মুসলিম #৭৬৩ ও শারহু মা‘আনিল আছার #১৭০২)

Check Also

মৃত্যুকালে হযরত মুয়ায (রাদ্বীয়াল্লাহু আনহু)-এর ভয়

لما حضرت سيدنا معاذا رضي الله عنه الوفاة، جعل يبكي، فقيل له: أتبكي (لا حاجة …