হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদ্বীয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মহান জ্ঞান

হযরত তাঊস (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন:

“আমি রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম)-এর সত্তর বা আশি জন প্রবীণ সাহাবীর সাহচর্যে বসেছিলাম।

আমি দেখলাম যে, তাঁদের মধ্যে কেউ যদি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদ্বীয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে কোনো দ্বীনি মাসআলাতে ভিন্নমত পোষণ করতেন, তবে তাঁর সাথে সাক্ষাতের পর (এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার পর), তাঁরা তাঁকে বলতেন:

‘আপনি যা উল্লেখ করেছেন (হে ইবনে আব্বাস), তা সঠিক মত!’, অথবা তাঁরা বলতেন, ‘আপনি যা বলেছেন তা সত্য।’” (আল-মু’জামুল কাবীর #১০৫৯৩)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদ্বীয়াল্লাহু আনহুমা)-এর একটি উপদেশ

ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদ্বীয়াল্লাহু আনহুমা) বার্ধক্যে অন্ধ হয়ে যাওয়ার পর, আমি একবার তাঁকে মক্কা মুকার্রমার হারাম শরীফে নিয়ে গেলাম, যেখানে তিনি একদল লোককে নিজেদের মধ্যে তর্ক করতে শুনলেন। তিনি আমাকে তাদের কাছে নিয়ে যেতে বললেন।

তাদের কাছে এসে তিনি “আসসালামু আলাইকুম” বলে সালাম দিলেন। তারা তাঁকে বসতে অনুরোধ করল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে বললেন, “আমি কি তোমাদেরকে সেই লোকদের কথা বলব, যারা আল্লাহ তা‘আলার দৃষ্টিতে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী? তারা হলো সেই ব্যাক্তিবর্গ, যাদেরকে আল্লাহর ভয়ের কারণে নীরব থাকতে হয়েছে, যদিও তারা অসহায় বা বোবা নয়। প্রকৃতপক্ষে, তারা খুব ভালোভাবে কথা বলতে পারে এবং তাদের বোধশক্তিও ভালো। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলার জিকির তাদেরকে এতটাই প্রবল করে তুলেছে যে, তারা বেশি কথা বলে না। যখন তারা আল্লাহ তা‘আলার গভীর স্মরণে অভিভূত হয়, তখন তারা সৎকর্মের দিকে দ্রুত ধাবিত হয়। তোমরা কেন এই লোকদের পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছ?”

হযরত ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, “এই উপদেশের পর আমি হারাম শরীফে দুইজন লোকের কোনো দলক একসাথে বসতে (এবং পার্থিব কথাবার্তায় লিপ্ত হতে) দেখিনি।”

বলা হয়ে থাকে যে, হযরত ইবনে আব্বাস (রাদ্বীয়াল্লাহু আনহুমা) আল্লাহ তা‘আলার ভয়ে এত বেশি কাঁদতেন যে, তাঁর গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়া অশ্রুতে গালে দাগ পড়ে গিয়েছিল।

উপরোক্ত ঘটনাটি সম্পর্কে হযরত শায়খ মাওলানা মুহাম্মদ যাকারিয়া (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন:

এই ঘটনায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদ্বীয়াল্লাহু আনহুমা) নেক আমল করার একটি অত্যন্ত সহজ পথ দেখিয়েছেন। আর তা হলো আল্লাহ তা‘আলার মহিমা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা। যদি এটি করা হয়, তবে আন্তরিকতার সাথে অন্যান্য সকল নেক আমল করা খুব সহজ হয়ে যায়। দিনের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে কয়েক মিনিট সময় আল্লাহ তা‘আলার মহিমা নিয়ে চিন্তা করার জন্য ব্যয় করা কি এতই কঠিন?

(ফাযায়েলে-আমল [ইংরেজি] পৃষ্ঠা ৪৩-৪৪, [উর্দু] পৃষ্ঠা ৩২-৩৩)

Check Also

বান্দাদের উপর আল্লাহ তা‘আলার অধিকার

রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম) একবার হযরত মুয়ায (রাদ্বীয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন, “তুমি কি জানো, বান্দাদের উপর …