সর্বশ্রেষ্ঠ দরূদ

হযরত কাব বিন উজরাহ (রাদ্বীয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন যে যখন কুরআন মাজিদের নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল হয়:

اِنَّ اللّٰهَ وَ مَلٰٓئِکَتَهُ یُصَلُّوۡنَ عَلَی النَّبِیِّ ؕ یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا صَلُّوۡا عَلَیۡهِ وَ سَلِّمُوۡا تَسۡلِیۡمًا ﴿٥٦﴾

আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতারা নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম) এর উপর দরূদ পাঠান (অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা রহমত পাঠান এবং ফেরেশতারা দোয়া করেন)। হে ঈমানদারগণ! তাঁর উপর দরূদ ও সালাম পাঠাও।

সাহাবীগণ (রাদ্বীয়াল্লাহু আনহুম) হযরত রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, “হে আল্লাহর রসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম)! আমরা আপনার উপর সালাম পাঠানোর পদ্ধতি জানি, (যেমন আপনি নামাজের তাশাহহুদে আমাদের সালাম পাঠ করার পদ্ধতি শিখিয়েছেন)। কিন্তু আমরা জানতে চাই, আপনার উপর কীভাবে সালাত পাঠ করতে হয়, (যেমন আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআন মাজীদে আমাদেরকে আপনার উপর সালাত পাঠ করার আদেশ দিয়েছেন)।”

এই প্রশ্নের উত্তরে হযরত রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম) সাহাবীগণ (রাদ্বীয়াল্লাহু আনহুম)-কে দরূদে-ইব্রাহিম শিক্ষা দিলেন।

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلٰى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ وَبَارِكْ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلٰى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ

হে আল্লাহ, মুহাম্মাদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম) এবং তাঁর পরিবারবর্গের উপর আপনার রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) এবং তাঁর পরিবারবর্গের উপর আপনার রহমত বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসার যোগ্য এবং মহিমান্বিত। (হে আল্লাহ,) মুহাম্মাদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম) এবং তাঁর পরিবারবর্গের উপর আপনার কল্যাণ বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) এবং তাঁর পরিবারবর্গের উপর আপনার কল্যাণ বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসার যোগ্য এবং মহিমান্বিত।

কিছু বর্ণনায় লিপিবদ্ধ আছে যে, একবার একজন সাহাবী রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম)-এর কাছে এসে তাঁর উপর দরূদ পাঠানোর পদ্ধতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। জবাবে রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম) দরূদে-ইব্রাহিমের কথা উল্লেখ করলেন। সম্ভবত এগুলো দুটি পৃথক ঘটনা। প্রথম ঘটনায় কয়েকজন সাহাবী জিজ্ঞাসা করতে এসেছিলেন এবং দ্বিতীয় ঘটনায় একজন ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করতে এসেছিলেন। উভয় ক্ষেত্রেই রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম) দরূদে-ইব্রাহিম ব্যাখ্যা করে দিলেন।

হযরত আব্দুর রহমান বিন আবি লায়লা (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক বর্ণিত বুখারী শরীফের একটি হাদিস থেকে এই বিষয়ে আলোকপাত হয় যে, হযরত রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম) কীভাবে সাহাবীগণকে (রাদ্বীয়াল্লাহু আনহুম) দরূদে-ইব্রাহিম শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং সাহাবীগণ (রাদ্বীয়াল্লাহু আনহুম) দরূদে-ইব্রাহিমের প্রতি কতটা গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রদর্শন করেছিলেন।