দরূদ সম্পর্কিত বিভিন্ন মাসায়েল – ২

৬. খুতবা চলাকালীন যখন হযরত রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম)-এর পবিত্র নাম উচ্চারিত হয়, তখন মুখে দরূদ পড়া উচিত নয়; বরং মনে মনে দরূদ পাঠ করা উচিত।

৭. অযূ না থাকা অবস্থায় বা অপবিত্র অবস্থায় (যেমন—হায়েয, নিফাস, জানাবাত ইত্যাদি) দরূদ পাঠ করা জায়েয। তবে অযূসহ দরূদ পাঠ করা অধিক সওয়াবের কাজ।

৮. নবী-রুসুল (আলাইহিমুস সালাম) ও ফেরেশতাগণ ছাড়া অন্য কারো উপর স্বতন্ত্রভাবে দরূদ পড়া উচিত নয়। তবে নবী-রুসুল ও ফেরেশতাদের ওপর দরূদ পড়ার পর অন্য কোনো ব্যক্তির ওপর দরূদ পড়া হলে তা জায়েয হবে। যেমন—কারো এভাবে বলা উচিত নয়:

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰی آلِ مُحَمَّدٍ

হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম)-এর পরিবারের উপর বিশেষ রহমত বর্ষণ করুন!

বরং তার এভাবে বলা উচিত:

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰی مُحَمَّدٍ وَّعَلٰی آلِ مُحَمَّدٍ

হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম) এবং মুহাম্মদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম)-এর পরিবারের উপর বিশেষ রহমত বর্ষণ করুন!

৯. পার্থিব উদ্দেশ্যে দরূদ পাঠ করা নিষিদ্ধ; যেমন—ক্রেতার সামনে নিজের পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যে দরূদ পড়া।

১০. হযরত রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম)-এর পবিত্র নাম লেখার সময় দরূদ ও সালামও পূর্ণরূপে লেখা উচিত। ‘সঃ’, ‘s.a.w’, ‘PBUH’ বা আরবিতে ‘صلعم’ লিখে দরূদ ও সালামকে সংক্ষেপ করা উচিত নয়। বিষয়টিকে অসম্মানজনক হিসেবে গণ্য করা হয়।

হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘যাদুস সাঈদ’ (Zaadus Sa’eed) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এক ব্যক্তি হযরত রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম)-এর পবিত্র নাম লেখার পর দরূদ লিখতেন না। কাগজ বাঁচানোর বা কৃপণতাবশত তিনি দরূদ লেখা থেকে বিরত থাকতেন। এর ফলে তাঁর ডান হাতে এমন এক রোগ দেখা দেয় যে, তিনি হাতটি ব্যবহার করতে অক্ষম হয়ে পড়েন।

হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহিমাহুল্লাহ) আরও উল্লেখ করেছেন যে, শাইখ ইবনে হাজার মক্কী (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন—এক ব্যক্তি কেবল ‘সল্লাল্লাহু আলাইহি’ (صلى الله عليه) লিখতেন কিন্তু ‘ওয়াসল্লাম’ (وسلم) লিখতেন না। একবার তিনি স্বপ্নে হযরত রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম)-কে দেখলেন এবং রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম) তাঁকে বললেন, “তুমি কেন ‘সালাম’ (অর্থাৎ ‘ওয়াসল্লাম’ অংশটি) না লিখে চল্লিশটি নেকি থেকে নিজেকে বঞ্চিত করছ?” ‘ওয়াসল্লাম’ (وسلم) শব্দটিতে চারটি অক্ষর রয়েছে এবং প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে দশটি করে নেকি অর্জিত হয়। সুতরাং, ‘ওয়াসল্লাম’ শব্দটি উচ্চারণ বা লেখার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি চল্লিশটি নেকি লাভ করতে পারেন।

Check Also

দৃঢ় বিশ্বাস ও আস্থার আবশ্যকতা

দ্বিতীয় আবশ্যকতা হলো, আমাদেরকে হযরত রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম)-এর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে এবং …