হযরত সা’দের জন্য রসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম) এর বিশেষ দোয়

উহুদের যুদ্ধের সময় রসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম) হযরত সা’দ (রাদ্বীয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্য বিশেষ দোয়া করেছিলেন যে:

“তীর নিক্ষেপ কর! আমার পিতা মাতা তোমার জন্য উৎসর্গ হোক!”

হযরত সা’দ (রাদ্বীয়াল্লাহু আনহু)-এর রসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম) কে পাহারা দেওয়া

হযরত আয়েশা (রাদ্বীয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেন:

মদীনা মুনাওয়ারায় হিজরত করার পর, এক একবার, রসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম) রাতে ঘুমাতে পারেননি (শত্রু তাঁকে আক্রমণ করবে এই ভয়ে)। তখনই রসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম) বললেন, “আজ রাতে আমাকে পাহারা দেওয়ার জন্য যদি একজন ধার্মিক লোক থাকত।” সেই অবস্থায় আমরা অস্ত্রের আওয়াজ শুনতে পেলাম। রসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, কে? লোকটি উত্তর দিল, “সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাদ্বীয়াল্লাহু আনহু)।” রসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমাকে এখানে কি এনেছে?” হযরত সা’দ (রাদ্বীয়াল্লাহু আনহু) উত্তরে বললেন, “হে রসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম) আমি আপনার প্রাণের ভয়ে ছিলাম, তাই আমি আপনাকে পাহারা দিতে এসেছি।” একথা শুনে রসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম) তার জন্য দোয়া করলেন এবং তারপর ঘুমিয়ে পড়লেন। (সুনানে তিরমিযী #৩৭৫৬, ফাতহুল বারী ৬/৯৬)

অন্য বর্ণনায়, হযরত আয়েশা (রাদ্বীয়াল্লাহু আনহা) উল্লেখ করেছেন যে, কুরআন মাজিদের নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হওয়া পর্যন্ত রসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম) সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) দ্বারা পাহারায় থাকতেন:

 وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ

এবং আল্লাহ তাআলা আপনাকে মানুষের (অনিষ্ট) থেকে রক্ষা করবেন।

যখন কুরআন মজিদের এই আয়াতটি নাযিল হয়, তখন রসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম) সাহাবায়ে কেরামকে বলেন, “হে লোক সকল! চলে যাও, যেহেতু আল্লাহ তাআলা আমাকে তার ঐশ্বরিক সুরক্ষা দিয়েছেন।” (সুনানে তিরমিযী #৩০৪৬)

Check Also

জান্নাতের সুসংবাদ

عن سعيد بن جبير رحمه الله أنه قال: مات ابن عباس بالطائف، فشهدنا جنازته، فجاء …